প্রকাশিত: ৩০/১২/২০১৯ ৮:১৯ এএম

রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতা মিয়ানমারকে অনেক দূর পর্যন্ত তাড়িয়ে বেড়াবে বলে মনে করেন পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক। গতকাল রবিবার ঢাকায় একটি হোটেলে এক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এ অভিমত জানান। ‘রোহিঙ্গা সংকট : কেন জবাবদিহিতা’ শীর্ষক ওই আলোচনা অনুষ্ঠান আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ (সিজিএস)। আলোচনায় বক্তারা রোহিঙ্গা সংকটের বিভিন্ন দিক এবং সম্প্রতি নেদারল্যান্ডসের হেগে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে (আইসিজে) জেনোসাইডের অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার অন্তর্বর্তী আদেশ চেয়ে করা মামলার শুনানি নিয়ে আলোচনা করেন।

পররাষ্ট্রসচিব রোহিঙ্গা নিপীড়নের জবাবদিহিতায় আইসিজে এবং আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতের (আইসিসি) উদ্যোগের ইতিবাচক ফলের ব্যাপারে আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা নিপীড়ন বা রোহিঙ্গা সংকট মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে কোনো বিষয় নয়। এটি মিয়ানমারের সঙ্গে তার দেশের জনগণের বিষয়। এটি তাদের অনেক দূর তাড়া করবে।
অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জাতিসংঘ অনুবিভাগের মহাপরিচালক নাহিদা সোবহান বলেন, মিয়ানমার অতীতের ‘ভুল’ থেকে শিখেছে। সত্তরের দশকে যে রোহিঙ্গারা বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল তাদের কাছে মিয়ানমারের পাসপোর্ট ছিল। নব্বইয়ের দশকে বিতাড়িত হয়ে এ দেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের কাছে ছিল মিয়ানমারের পরিচয়পত্র। ২০১৭ সালে যাদের পাঠানো হয়েছে তাদের মিয়ানমারের পরিচয়পত্র ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। তিনি বলেন, আইসিজেতে মামলার শুনানিতে মিয়ানমার দাবি করেছে রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতা হলেও তা জেনোসাইড নয়। নৃশংসতার ব্যাপারে মিয়ানমারের এই স্বীকারোক্তিকে আইসিসি আমলে নিতে পারে।

নাহিদা সোবহান আরো বলেন, মিয়ানমার আইসিসির বিচারিক এখতিয়ার অস্বীকার করে আসছে। কিন্তু মিয়ানমার ভাবেনি যে তাকেও আইসিসির এখতিয়ারে নেওয়ার উপায় আছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে দ্বিপক্ষীয়, বহুপক্ষীয় ও জবাবদিহির উদ্যোগ প্রয়োজন। আইসিজের অন্তর্বর্তী আদেশের শুনানির ৪৫ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে রায় ঘোষণার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশে কানাডার হাইকমিশনার বেনোয়া প্রিফন্টেইন বলেন, তাঁর দেশ চলমান রোহিঙ্গা সংকটের প্রায় শুরু থেকেই দৃষ্টি রাখছে। বিশিষ্ট আইনজীবী বব রেকে মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত নিয়োগ করেছে কানাডা। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের জন্য কানাডা মিয়ানমারের ওপর প্রভাব বিস্তার করবে। তবে মিয়ানমারের সাধারণ জনগণকে কানাডা শাস্তি দিতে চায় না।

নেদারল্যান্ডসের উপরাষ্ট্রদূত জেরোয়েন স্টিগস বলেন, তাঁর দেশের সংবিধানের আলোকেই তারা মিয়ানমারের জবাবদিহির আইনি উদ্যোগকে সমর্থন করেছে। নিরাপদ, সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের জন্য জবাবদিহি অপরিহার্য।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনবিষয়ক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সারওয়ার হোসেন বলেন, রোহিঙ্গাদের দীর্ঘ মেয়াদে এ দেশে অন্তর্ভুক্ত করার ভাবনার অর্থ হলো জেনোসাইডকে সমর্থন করা ও মেনে নেওয়া।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক বলেন, রোহিঙ্গা নিপীড়নের জবাবদিহির উদ্যোগকে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যেতে আইসিসি ও আইসিজে ভূমিকা রাখবে।

সিজিএস পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, হেগের আদালতে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি ‘আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মির (আরসা)’ নাম বলতে গিয়েই কেবল ‘রোহিঙ্গা’ শব্দ উচ্চারণ করেছেন। এর বাইরে তিনি একবারের জন্যও ‘রোহিঙ্গা’ শব্দ উচ্চারণ করেননি। এটিও জেনোসাইডের লক্ষণ।

পাঠকের মতামত

পারিবারিক মামলার শুনানি শেষে ফেরার পথে প্রাণ গেল উখিয়ার রুবিনা ও শাহীনাসহ ৩ জনের

সকালে কক্সবাজার আদালতে এসেছিলেন পারিবারিক একটি মামলার শুনানিতে অংশ নিতে। আদালতের কার্যক্রম শেষে বাড়ি ফেরার ...

জাতিসংঘের মহাসচিব পদে ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোকে দেখতে চান ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে মনোনয়ন দিতে চান ...

যেকোনো সময় ইসরাইলে হামলা, মিত্রদের প্রস্তুত থাকতে বলল ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই হিজবুল্লাহসহ নিজেদের অন্যান্য আঞ্চলিক মিত্রদের বৃহত্তর সংঘাতের জন্য প্রস্তুত হতে ...

তেহরানের বিলবোর্ডে ট্রাম্পকে কফিনে দেখিয়ে হত্যার হুমকি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি দিয়ে ইরানের রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রস্থলে একটি বড় বিলবোর্ড স্থাপন ...
Single Page Footer